নিজস্ব প্রতিবেদক:
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, ‘আমরা বিদেশি পণ্যের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে দেশীয় পণ্য ব্যবহার করতে চাই। এটা আমাদের দর্শন। দেশে যেসব পণ্য উৎপাদন হবে, সেসব পণ্যের ওপর আস্থা আনতে চাই।’
সোমবার (২০ ডিসেম্বর) সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ভার্চুয়াল সভা শেষে ব্রিফিংকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
দেশে জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২১ প্রকল্পের আওতায় পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে ৩ লাখ ৯৫ হাজার ট্যাব কেনার একটি প্রস্তাব ক্রয় কমিটির সভায় উপস্থাপন করা হয়। প্রস্তাবটি এর আগেও কয়েকবার উপস্থাপন করা হয়েছিল। প্রতিবারই প্রস্তাবটি সংশোধনের জন্য ফেরত পাঠানো হয়। তবে, এবারের সভায় সেটি বাতিল করা হয়েছে বলে সভা সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, জনশুমারি ও গৃহগণনা প্রকল্পের আওতায় ‘ট্যাবলেট ফর কম্পিউটার অ্যাসিস্টেড পারসোনাল ইন্টারভিউইং (সিএপিআই) ফর মেইন নেন্সাস’ প্যাকেজে ৩ লাখ ৯৫ হাজার ট্যাব সংগ্রহের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে ফেয়ার ইলেক্টনিক্স লিমিটেড ও দেশীয় ইলেক্ট্রনিক্স পণ্য উৎপাদন প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ অংশ নেয়। দরপত্রে ওয়ালটন সর্বনিম্ন দরদাতা হলেও টেকনিক্যাল কারণ দেখিয়ে প্রতিষ্ঠানটির দরপত্র বাতিল করা হয়। অন্যদিকে, ফেয়ার ইলেক্ট্রনিক্স লিমিটেডের কাছ থেকে ৫৩৭ কোটি ১২ লাখ ১০ হাজার ৩৯৫ টাকার ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করে। বিষয়টি ক্রয় কমিটির নজরে আসার পর সেটি পুনঃমূল্যায়নের জন্য ফেরত পাঠানো হয়।
জানা গেছে, গত ২৭ নভেম্বর তারিখের সিসিজিপি সভায় উপস্থাপন করা হলে প্রথম টেন্ডার এবং পুনঃআহ্বানকৃত টেন্ডারের তুলনামূলক বিশ্লেষণ উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়। সে অনুসারে প্রস্তাব করা হয়। এ অবস্থায় দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশকৃত একমাত্র রেসপনসিভ দরদাতা প্রতিষ্ঠান ফেয়ার ইলেক্ট্রনিক্স লিমিটেডের কাছ থেকে ৫৩৭ কোটি ১২ লাখ ১০ হাজার ৩৯৫ টাকায় ৩ লাখ ৯৫ হাজারটি ট্যাব কেনার প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য পুনরায় উপস্থাপন করা হলে ক্রয় কমিটি পুনঃদরপত্র আহ্বান করার জন্য ফেরত পাঠায়।
ফেয়ার ইলেক্ট্রনিক্স লিমিটেড তাদের দ্বিতীয় দরপ্রস্তাবে প্রতিটি ট্যাবের দাম উল্লেখ করেছে ১৩ হাজার ৫৯৮ টাকা। প্রতিষ্ঠানটি আগের উদ্ধৃত দরের চেয়ে বর্তমানে ১১ কোটি ৬১ লাখ ৬ হাজার ৬৭৫ টাকা কম উল্লেখ করে দরপ্রস্তাব পাঠিয়েছিল।
অন্যদিকে, নন-রেসপনসিভ হওয়া দেশীয় দরদাতা প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন ডিজি-টেক লিমিটেড তাদের উদ্ধৃত দর ছিল সুপারিশকৃত দরদাতা ফেয়ার ইলেক্ট্রনিক্স লিমিটেডের চেয়ে ১৪৬ কোটি ২৯ লাখ ৩৭ হাজার ২৮০ টাকা কম।
সভা শেষে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আমদানি করা পণ্য ব্যবহার করতে চাই না। দেশে যে পণ্য উৎপাদন হয়, তাকে আমরা প্রমোট করতে চাই। কারণ, এর সঙ্গে দেশের অর্থনীতি জড়িত। এছাড়া, এসব দেশীয় শিল্প বিকাশ ঘটলে বিপুল সংখ্যাক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।’
Leave a Reply